প্রবাসী সেবায় 'স্যার' সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক বিবর্তন—একটি বিশেষ বিশ্লেষণ
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) ব্রিটিশ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে 'স্যার' শব্দটি সংরক্ষিত ছিল কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে গত কয়েক দশক পর্যন্ত আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের সাথে যে ধরণের আচরণ করা হতো, তাকে অনেক ক্ষেত্রে 'হয়রানি' বা 'অসম্মান' হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। তবে ২০২৬ সালের ৫ই মার্চ, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য—"প্রবাসীদের অর্থেই আমাদের বেতন হয়, তাই তাদের স্যার বলতে হবে"—বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক বিশাল 'প্যারাডাইম শিফট'।
এই নির্দেশনার ৪টি প্রধান ও তাত্ত্বিক দিক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা একটি রূঢ় কিন্তু সত্য বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন মূলত প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ থেকেই আসে।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক মানসিকতায় সাধারণ মানুষকে 'প্রজা' ভাবা হতো। ২০২৬ সালের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রবাসীদের 'প্রজা' বা 'শ্রমিক' নয়, বরং রাষ্ট্রের 'অন্নদাতা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি একটি জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনের প্রাথমিক শর্ত।
প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের "প্রবাসীদের স্যার বলার সংস্কৃতি" গড়ে তোলার প্রস্তাবটি অত্যন্ত বৈপ্লবিক।
প্রভাব: বিমানবন্দরে কর্মরত সিভিল এভিয়েশন বা ইমিগ্রেশন পুলিশ যখন একজন সাধারণ প্রবাসী কর্মীকে 'স্যার' বলে সম্বোধন করবেন, তখন সেটি সেই কর্মীর আত্মমর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি বিমানবন্দরের সেই চিরাচরিত ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে একটি 'যাত্রীবান্ধব' পরিবেশ তৈরি করবে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কেবল সম্বোধনের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, তারা অনিয়ম রোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি এবং 'আকস্মিক পরিদর্শন' (Surprise Visit)-এর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বাস্তবায়ন: ২০২৬ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। অগ্নিকাণ্ড বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে যে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে, তা বিমানবন্দরের বৈশ্বিক রেটিং বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রী মহোদয় প্রবাসীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেক প্রবাসী ভাষা বা প্রক্রিয়া না বোঝার কারণে দালালের খপ্পরে পড়েন। বিমানবন্দরের কর্মচারীরা যদি সহযোগিতামূলক আচরণ করেন, তবে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
১৯০০ সালের সেই সাহেবি কায়দার 'স্যার' সম্বোধন আজ ২০২৬ সালে এসে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাপ্য সম্মানে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি সম্মানের দলিল। বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ যদি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তবে শাহজালাল বিমানবন্দর হবে প্রবাসীদের জন্য সত্যিকারের একটি 'ঘর'। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল সম্বোধনে নয়, বরং লাগেজ হ্যান্ডলিং এবং ইমিগ্রেশনে হয়রানি বন্ধ করাটাই হবে প্রকৃত সম্মান।
তথ্যসূত্র: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দপ্তর সম্মেলন কক্ষ (৫ মার্চ ২০২৬), বিমান মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ এবং ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশ ডায়েরি।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও নিবিড় বিমান চলাচল ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |